গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ কলকাতা মহানগরীর বুকে মৌলালী রাজ্য যুব কেন্দ্রের বিবেকানন্দ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১৩৫ তম আম্বেদকর জন্ম জয়ন্তী। পরিচালনায় আম্বেদকর কালচারাল কলেজ এবং আম্বেদকর ফাউন্ডেশন।
এই অনুষ্ঠানে আক্ষরিক অর্থেই চাঁদের হাট বসেছিল। ছিলেন পদ্মশ্রী রতন কাহার, পদ্মশ্রী গোকুল চন্দ্র দাস,সাংসদ বিজয় বর্মন, বিধায়ক নির্মল মাঝি, স্বামী সর্ব সুখানন্দ, সাহিত্যিক ও রবীন্দ্র গবেষক ডঃ সমীর শীল, মুকুল বৈরাগ্য, অধ্যাপক আশীষ সানা, এবং সম্পাদক দিলীপ বিশ্বাস প্রমুখ।
এই অনুষ্ঠানে ডঃ সমীর শীল-কে এই বছরের আম্বেদকর সমাজ আচার্য সম্মাননা 2025 প্রদান করা হয়।
ডঃ সমীর শীলের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের সাহিত্য ও সমাজ সেবার জন্য এই মহতী সম্মাননা প্রদান করা হয়। বর্নাঢ্য উত্তরীয় পরিয়ে তাকে বরন করে নেওয়া হয়। তার হাতে মানপত্র এবং সুদৃশ্য স্মারক তুলে দেন পদ্মশ্রী রতন কাহার, বিধায়ক নির্মল মাঝি এবং সম্পাদক দিলীপ বিশ্বাস।দীক্ষান্ত ভাষনে ডঃ সমীর শীল প্রথমেই পাঁচজন আলোর মানুষের কথা বলেন। যারা নিজেরা দগ্ধ হয়ে বিদগ্ধ হয়েছেন। নিজেদের শরীরে সূর্যের মতো আলোক সংশ্লেষ করেছেন। এবং এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ কে আলোকিত করেছেন।
তিনি প্রথমেই যে আলোর মানুষের কথা বলেন। তিনি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।আজ থেকে ৫৩৯ বছর আগে ১৪৮৬ সালে জন্মাচ্ছেন নবদ্বীপে জগন্নাথ মিশ্রের ঘরে। যিনি পরবর্তী কালে আচন্ডালে প্রেম বিতরন করেছেন। বিশ্বের প্রথম সাম্যবাদী মানুষ। যিনি বলেছেন চন্ডালোহপি দ্বিজ শ্রেষ্ঠ হরি ভক্তি পরায়ন।
ডঃ সমীর শীল শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে আমরা তো আর সূর্যের মতো হতে পারবো না। কিন্তু আমরা জোনাকি হতে পারি। আসুন একসাথে জোনাকির মতো ঝাঁক বেঁধে থাকি। যাতে সমাজের অন্ধকার দূরীভূত হয়। আসুন আমরা আলোয় থাকি, ভালোয় থাকি, বাংলায় থাকি, বাঙালিয়ানায় থাকি এবং অবশ্যই রবীন্দ্র নাথে থাকি। যিনি বলেছেন যারে তুমি নীচে ফেলো, সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে। পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।


